Home » ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে চেনেন না দলের নেতারা

ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে চেনেন না দলের নেতারা

কর্তৃক ajkermeherpur
52 ভিউজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে প্রকৌশলী নাবিলা তাসনীম নামে এক নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেন। তবে এ প্রার্থিতা ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। খোদ এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও চেনেন না দল ঘোষিত এ প্রার্থীকে। আর এনসিপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, এই মনোনয়ন প্রাথমিক। এটি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ধামরাই উপজেলা এনসিপির নেতাকর্মীরা জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে প্রায় এক বছর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতায় এ বছরের ২২ জুন এনসিপি ধামরাই উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। সেই সময় থেকেই নেতাকর্মীরা পৌরসভা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।সম্প্রতি মনোনয়ন আহ্বান করা হলে ধামরাইয়ের পাঁচ নেতা মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এরমধ্যে নাবিলা তাসনীম নামে একজনকে মনোনীত করে ঘোষণা দেয় এনসিপি। তিনি ধামরাইয়ের চৌহাট ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি রাজধানী ঢাকায় থাকেন।

নাবিলা তাসনীমের নাম ঘোষণার পরপরই এনসিপির ধামরাই উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দেন। এ নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলছেন, নাবিলা তাসনীম নামে কাউকে তারা চেনেন না। নাম ঘোষণা পরই তারা এই নামে কেউ আছে জানতে পারেন। দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় ও এলাকায় কোনও সংযোগ নেই- এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তারা।

যা বলছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা

এনসিপির বালিয়া ইউনিয়ন ও চৌহাট ইউনিয়নের অন্যতম সংগঠক ইসরাফিল হোসেন রাজন বলেন, ‘আমি তাকে চিনি না। কখনও পরিচয় হয়নি। মনোনয়ন পাওয়ার পর জানলাম উনি ঢাকায় থাকেন। এলাকায় খুব একটা আসেন না। মনোনয়ন পাওয়ার পরও কোনও ধরনের যোগাযোগ হয়নি। এলাকায়ও এই প্রথম জানলো এই নামে কেউ একজন আছে।’

ধামরাই উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘দলের সঙ্গে তার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের সঙ্গে কোনও পরিচয়ও নেই। ঘোষণার পরও ধামরাই উপজেলার কোনও নেতাকর্মীর সঙ্গে তিনি পরিচিত হননি। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। দেখা যাক কী হয়।’দলের ধামরাই উপজেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ইসরাফিল ইসলাম খোকন বলেন, ‘এনসিপি ১২৫ জনের নাম ঘোষণা করলো, তখনই ঢাকা-২০ এর প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হলো। তখনই আমরা জানতে পারি নামটি। এর আগে এমন কোনও ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল না। যেটা জানতে পেরেছি, যখন মনোনয়ন আহ্বান করা হয় তখন তিনি ঢাকা-২০ এর জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে যেভাবে ঘোষণা করেছে, বিষয়টি আমরা মানতে পারি না। এ জন্য আমরা অনাস্থা দিয়েছি। যতটা জানতে পেরেছি, এক দুইদিনের মধ্যে তারা আমাদের সঙ্গে বসবে। তারপর একটা সিদ্ধান্ত আসবে।’

পুনর্মূল্যায়ন হবে আশা অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের

ঢাকা-২০ ধামরাই আসনে এনসিপির প্রার্থী হতে মনোনয়ন সংগ্রহ করা এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমি আশা করবো, গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে আমার দল তৃণমূলে যে কাজ করেছে তাদেরকে মূল্যায়ন করবে। যেহেতু এটা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আছে, আমি বিশ্বাস রাখতে চাই। তারা অবশ্যই মূল্যায়ন করে যোগ্য ব্যক্তিকে ধামরাইয়ের জন্য নির্বাচিত করবেন।’

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী জহির বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। শুনেছি, তিনি ধামরাইয়ের মেয়ে। তবে দলীয় কোনও কার্যক্রমে বিগত দিনে তাকে দেখিনি। আমরা মাঠে কাজ করি। মনোনয়ন দেবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর বাইরে আমার মন্তব্য নেই।’এসব বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে ও মেসেজ পাঠালেও কোনও সাড়া দেননি প্রকৌশলী নাবিলা তাসনীম। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি দেশের মানুষ, বিশেষ করে ধামরাইবাসীর পাশে দাঁড়াতে ও ধামরাইয়ের উন্নয়ন করতে চাই। ইঞ্জিনিয়ার ও এমবিএ পড়েছি- প্রায় ১০ বছর মার্চেন্ডাইজ কোম্পানিতে কাজ করেছি, সেই অভিজ্ঞতা জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাবো। আমি জনগণের মতামতকে স্বাগত জানাই এবং নির্বাচনের সময় যেসব কথা দেওয়া হবে, সেগুলো বাস্তবে রূপান্তরিত করব। আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।’

এনসিপি যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ওয়াকিবহাল রয়েছি। মনোনয়ন দেওয়ার সময় আমরা কোনও কিছুই চূড়ান্ত করে দেইনি। এটা প্রাথমিক মনোনয়ন। এটার যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে।’

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন