Home » দুই সন্তান রেখে স্বামীকে তালাক দিয়ে কুয়েতে প্রেমিককে বিয়ে, অতঃপর…

দুই সন্তান রেখে স্বামীকে তালাক দিয়ে কুয়েতে প্রেমিককে বিয়ে, অতঃপর…

কর্তৃক ajkermeherpur
250 ভিউজ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দুই সন্তান রেখে কুয়েত পাড়ি দেন রুমা আক্তার (৩৬)। সেখানেই স্বদেশের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে বিয়ে করেন। আর এই বিয়ের কিছুদিন পরই পরিবারের চাপে বিবাদ দেখা দিলে ওই নারী দেশে এসে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে শনিবার (২৯ নভেম্বর) ময়মনসিংহের নান্দাইলের রাজগাতি ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়রাটি গ্রামে এসে অবস্থান নিয়েছেন। তবে স্বামী অবস্থান করছেন কুয়েতে। এ ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার এলাকার গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

ওই নারী জানান, তার বাড়ি নরসিংদী সদরের চিনিসপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া ঘোড়াদিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে রুমা আক্তার (৩৬)। এলাকায় তিনি বিয়ে করে দুই সন্তানের মা হন।

এর মধ্যে গত প্রায় দুই বছর আগে তিনি কুয়েতে যান। সেখানে একটি হাসপাতালে সেবিকা হিসাবে কাজ করেন। এ অবস্থায় ওইখানে পরিচয় হয় নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. নুর নবীর (৩০) সঙ্গে। তাকে বিয়ে করার জন্য দেশে স্বামীকে তালাক দেন।

এরপর গত প্রায় এক বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ভালোভাবেই চলছিলেন। পরে স্বামীর বাড়িতে ঘটনা জানাজানি হলে বেকে বসেন স্বামীর পরিবার। কোনো মতেই এই বিয়ে মানতে নারাজ। এ খবর পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে একে অপরকে ছেড়ে ভিন্ন জায়গায় বসবাস করা অবস্থাতেই স্ত্রী রুমা গত ২২ নভেম্বর দেশে এসে গত ২৭ নভেম্বর মাকে সঙ্গে নিয়ে নান্দাইলের দক্ষিণ খয়রাটি গ্রামে এসে স্বামীর বাড়ির খোঁজ করে সন্ধান পান। ওই সময় তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যের দ্বরাস্থ হয়ে গত শুক্রবার স্বামীর বাড়িতে গেলে সেখানে স্বামীর পরিবারের লোকজনের তাড়া খেয়ে মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে এলাকার লোকজনের সহায়তায় শনিবার ফের তিনি স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অবস্থান নেন।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, অসহায় ওই নারী বিস্তারিত বলা ছাড়াও বিয়ের সকল কাগজপত্র দেখালে তিনি সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমানের (নারীর শ্বশুর) বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু তখন বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পর দিন শনিবার ফের ওই নারী ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে নারীর শ্বশুর সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান জানান, তার ছেলে যদি বিয়ে করে থাকে তাহলে এটা একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। এখন তো ছেলে বাড়িতে নেই। তাছাড়া ছেলের আলাদা কোনো কিছু নেই। এ অবস্থায় ওই নারীর দাবি অযৌক্তিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল থানার সহ-উপপরিদর্শক ঝুটন চন্দ্র সরকার জানান, ওই নারীকে পরিবারসহ থানায় আসার জন্য বলা হয়েছে। আসলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন