নিজস্ব প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কান্দিপাড়া মাদ্রাসা রোডে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ তিন জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা হলেন—কান্দিপাড়া এলাকার টুটুল মিয়া (৩৫), শিহাব উদ্দিন (২৫) ও সাজু মিয়া (২২)। তারা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপের অনুসারী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নুর ইবনে বিন সিফাত বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ তিন জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে টুটুলের অবস্থা গুরুতর। বাকিরা শঙ্কামুক্ত।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কান্দিপাড়া এলাকার লায়ন শাকিল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সন্ধ্যায় দিলীপ গ্রুপ কান্দিপাড়া এলাকায় অবস্থানকালে লায়ন শাকিল ও তার সহযোগীরা দিলীপ গ্রুপের ওপর ছররা গুলি ছোড়ে। এতে টুটুল, শিহাব ও সাজু মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গুলিবিদ্ধ টুটুল মিয়া বলেন, ‘দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শাকিল নামে একজন আমাকে গুলি করে। স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিভিন্ন সময়ে শাকিলের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।’
আহত শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি টুটুল মিয়ার পাশেই দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলাম। কিছু বুঝে উঠার আগেই টুটুল মিয়াকে গুলি করা হলে আমার হাতে ও পায়ে গুলি লাগে।’
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন দিলীপ বলেন, ‘আমি সরাইলে ছিলাম। শাকিল কোনও কারণ ছাড়াই আমার অনুসারীদের ওপর হামলা করেছে আজ।’
তবে লায়ন শাকিল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দিলীপের সঙ্গে ভারতীয় শাড়ির দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তবে গুলির ঘটনায় আমি সম্পৃক্ত নই।’
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘লায়ন শাকিল গ্রুপ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ গ্রুপের মধ্যে পুরোনো বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে দিলীপ গ্রুপের লোকজন এলাকায় অবস্থান করলে শাকিল ও তার সহযোগীরা এসে গুলি ছোড়ে। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হন। এখনও কারও অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

