Home » যত সহজ ভাবা হচ্ছে নির্বাচন তত সহজ হবে না: নেতাকর্মীদের তারেক রহমান

যত সহজ ভাবা হচ্ছে নির্বাচন তত সহজ হবে না: নেতাকর্মীদের তারেক রহমান

কর্তৃক ajkermeherpur
51 ভিউজ

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যত সহজ ভাবা হচ্ছে, নির্বাচন তত সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এক বছর, সোয়া বছর আগে যে কথাটি বলেছিলাম যে, সামনের নির্বাচন যা ভাবছেন তা নয়। আজকে আস্তে আস্তে আমার কথাটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখনো যদি আমরা সিরিয়াস না হই, সামনে এ দেশের অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। এটা একমাত্র বাঁচাতে পারে গণতন্ত্র এবং সেই গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে পারেন আপনারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি মানুষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন।তারেক রহমান বলেন, বিএনপির পরিকল্পনাগুলো জানাতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হবে। তাহলে নিশ্চয়ই মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় সরকার হবে না। যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে, তাদের পাশাপাশি যারা ভোট দেয়নি তাদের জন্যও কাজ করতে হবে। নির্দিষ্ট কারও জন্য কাজ করা যাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি স্বপ্ন দেখাচ্ছে না, বিএনপি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। নির্বাচনের বেশি সময় নেই। দল যার হাতে ধানের শীষ দিয়েছে, তাদের পক্ষে থাকতে হবে। প্রার্থী আসবে, প্রার্থী পরিবর্তন হবে, তবে দল ও আদর্শ রয়ে যাবে।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিথ্যা বলার দরকার নেই। বাস্তবভিত্তিক যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটা জনগণের কাছে পৌঁছে দিলেই হবে। এই কাজ করা কঠিন। তবে সবাই মিলে চেষ্টা করলে সেটি করা সম্ভব হবে।

উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় দেখলাম, কিছু ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে তাদের কথা বলছেন। তারা যদি বলতে পারে, আপনি কেন বলতে পারবেন না? বললে সবাই বলবে, না বললে কেউ বলতে পারবে না। আপনি আপনার এলাকায় সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। বললে সবার বলার অধিকার আছে। আর যদি কোথাও নিয়ম হয়ে থাকে, বলবে না। তাহলে সেই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। কোনো বিশেষ কারও জন্য হবে আর কারও জন্য হবে না, এটা তো হতে পারে না।নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা পরীক্ষিত নেতাকর্মী। শত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও আপনারা এই দলকে ধরে রেখেছেন। সেই ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে গত স্বৈরাচারের ১৫ বছরের ষড়যন্ত্র সব আপনারা মোকাবেলা করেছেন। তাহলে এখন কেন এই সামনের যেই নির্বাচনী যুদ্ধ এই যুদ্ধ মোকাবেলা করতে পারবেন না? আপনার দলের যে পরিকল্পনা জনগণকে ঘিরে দেশকে ঘিরে কেন সেটা জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবেন না। চাইলেই আপনারা এটা করতে পারবেন, এটা করতে হবে।

তারেক বলের, দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবে রুপ দিতে হলে আমাদের জনগণের সমর্থন প্রয়োজন এবং জনগণের সমর্থনকে দলের পেছনে আনতে হলে আপনাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগ প্রয়োজন। আসুন আমরা সেই উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমি কি আপনাদের কাছে সেই প্রত্যাশা রাখতে পারি যে, আপনারা এখান থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

‘ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আপনি নিজের এলাকায় যাবেন, কষ্ট করবেন আপনার দলের পরিকল্পনাগুলোকে সফল করার জন্য। আপনার সামনে থাকবে ধানের শীষ। আপনার সামনে কোন ব্যক্তি থাকবে না। ধানের শীষকে আপনি বের করে নিয়ে আসবেন, ধানের শীষের পক্ষে আপনি জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। ধানের শীষের জন্য আপনি জনগণের মতামতকে এক জায়গায় ব্যালট বক্সের ভিতরে নিয়ে আসবেন।তিনি বলেন, আপনাদের মিটিং করে বললে হবে না। ছোট ছোট গ্রুপ করে ঘরে ঘরে যেতে হবে, মাঠে মাঠে যেতে হবে। কৃষকের ক্ষেতে যেতে হবে। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিম সাহেবদের কাছে যেতে হবে, প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুলের শিক্ষকদের কাছে যেতে হবে, ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে যেতে হবে, স্কুল-কলেজের তরুণ-তরুণীদের কাছে যেতে হবে, যুবকদের কাছে যেতে হবে। আপনারা পেরেছেন স্বৈরাচারকে মোকাবেলা করতে, আপনারা পেরেছেন ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে, গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের এই কাজেও আপনারা সফল হবে এই প্রত্যাশা আমি করছি।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নামলে বিভ্রান্তিকারীও পিছু হটবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের পরিকল্পনাগুলো জনগণকে জানতে হবে। আপনারা ছাড়া জনগণের পক্ষে জানা সম্ভব না। আপনি যদি না যান, আরেকজন যাচ্ছে সে গিয়ে মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে জনগণের মাঝে। কাজেই আপনি এই মিথ্যা বিভ্রান্তি বন্ধ তখনই হবে যখন আপনি মাঠে হাজির হয়ে যাবেন। আপনি যখন মাঠে হাজির হয়ে যাবেন তখন এই বিভ্রান্তি কিন্তু সে ছড়াতে পারবে না। আপনার একটা ভিডিও দেখেছেন, কয়েজন মহিলা গিয়ে এক মহিলাকে বলছে বাচ্চার মাথায় রেখে তখন মহিলা প্রতিবাদ করে উঠেছে। এরকম ঘটনা হচ্ছে। আপনারা আজকে মাঠে নেমেছেন বলেই কিন্তু আজকে যারা প্রতিবাদ করার তারাও সাহস পাচ্ছে। আপনি যখন আরো মাঠে নামবেন তখন এই ধরনের প্রতিবাদ আরো বাড়বে।

‘দেশ গড়া পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম খান বাবুল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপরে বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন