Home » ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি না পেলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা!

২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি না পেলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা!

কর্তৃক xVS2UqarHx07
20 ভিউজ

২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি না পেলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা!

আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, সময়মতো এই অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে এবং দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বিশাল ব্যবধানের কারণে সরকারকে প্রতি বছর বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ১২ টাকা ১৫ পয়সা। অথচ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিক্রি করছে মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারকে ৫ টাকা ২৭ পয়সা লোকসান গুণতে হচ্ছে, যা ভর্তুকি হিসেবে সমন্বয় করা হয়।

ভর্তুকির এই বিশাল চাহিদার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ভুল পরিকল্পনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির সিংহভাগই চলে যায় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া প্রদানে। বিগত সরকারের আমলে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালসহ এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের অধিকাংশ সারাবছর অলস বসে থাকে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ না কিনলেও সরকারকে

আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০,১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সময়মতো এই অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের বিশাল ফারাকের কারণেই এই বিপুল ভর্তুকির প্রয়োজন হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা কেন্দ্র ভাড়া হিসেবে দিতে হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি (৫.০২ টাকা থেকে ১৫.৫০ টাকা) এবং চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে।

ভর্তুকির এই বিশাল চাহিদার পেছনে বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনা ও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। বিগত ১৫ বছরে অলস বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে শুধুমাত্র ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণেও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে ভর্তুকির অর্থ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি

আসন্ন সেচ ও গ্রীষ্মের পিক মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এবং গ্রিডে নতুন যুক্ত হওয়া ৩টি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে গত ১৬ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ বিভাগে ভর্তুকির এই চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ের জন্য এই অর্থ চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে জানানো হয়, জাতীয় গ্রিডে নতুন যুক্ত হওয়া তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতেই বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। এগুলো হলো— শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এইচএফও ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। শুধুমাত্র এই তিনটি কেন্দ্রের জন্য মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন।

এছাড়া, ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির বিল মেটাতে ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা এবং সরকারি কোম্পানি ও বিপিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে, বাংলাদেশকে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর চাপ দিয়ে আসছে। আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার চলতি বছরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

গ্রিডে নতুন যুক্ত হওয়া তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র (শ্রীপুর, পটুয়াখালী ও মাতারবাড়ি) চালু রাখতেই মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮,২৪৪ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন। এছাড়া, ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির বিল মেটাতে ৮,২৭৫ কোটি টাকা এবং সরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য ৩,৬১৭ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে। অর্থ বিভাগ থেকে এখনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে
ভর্তুকির বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব (উন্নয়ন-১) মো. সোলায়মান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ভর্তুকি চেয়ে চিঠি পাঠানোর পর অর্থ বিভাগ থেকে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আলোচনা চলছে। তবে, এই অর্থ ছাড় না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিশ্চিতভাবেই প্রভাব পড়বে।’

এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এই ভর্তুকি সামলানো প্রায় অসম্ভব। সরকার এখনই দাম বাড়াতে চায় না, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে দাম বৃদ্ধি আবশ্যক
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইন
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন অধ্যাপক ইজাজ হোসেইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির দায় মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল পরিকল্পনার। তারা পরিকল্পনা করেছিল তিন-চার মাস পরপর দাম বাড়িয়ে চলতি বছরের মধ্যেই ভর্তুকি সমন্বয় করবে। কিন্তু বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এই ভর্তুকি সামলানো প্রায় অসম্ভব। সরকার এখনই দাম বাড়াতে চায় না, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে দাম বৃদ্ধি আবশ্যক।’

সূত্র ঢাকা পোস্ট

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন