Home » আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করার পক্ষে ৬৯ শতাংশ মানুষ।

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করার পক্ষে ৬৯ শতাংশ মানুষ।

কর্তৃক ajkermeherpur
60 ভিউজ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ৮০ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ ‘খুবই আশাবাদী’। তবে দেশের সমস্যাগুলো নিয়ে তাদের উদ্বেগও রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা বলে মনে করছেন নাগরিকরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সর্বশেষ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের মূল্যায়ন স্থান পেয়েছে।

চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগে এ জরিপ পরিচালনা করে আইআরআইয়ের প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ। ‘ন্যাশনাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৫’ শিরোনামে গত সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে, যেখানে ৪২ শতাংশ ভিন্নমত দিয়েছেন। উন্নতির কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও খাদ্য নিরাপত্তা। অন্যদিকে যারা মনে করেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে, তারা প্রধান কারণ হিসেবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। তবে এসব সত্ত্বেও দেশ নিয়ে আশাবাদী তারা। কিন্তু এ আশাবাদের পথে অন্তরায় দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা, বেকারত্ব ইত্যাদি।

জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের ২১ শতাংশ নাগরিক দুর্নীতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আর ১৮ শতাংশের কাছে বড় সমস্যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা। দেশের নাগরিকদের বড় এটি অংশের মত, চাকরি পেতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হতে হয়। ৩০ শতাংশ মানুষের ভাবনা এমনই। অন্যদিকে ১৮ শতাংশ নাগরিক মনে করেন সরকারি জাতীয় চুক্তিগুলোয় দুর্নীতি হয়।

দেশের দুর্নীতি বন্ধ না হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অন্যান্য দেশের মতো নির্বাহীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনতে হবে। তা না হলে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি দমনে তারা ভূমিকা রাখতে পারবে না। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ সুপারিশ দিয়েছে। কিন্তু দুদককে স্বাধীন করার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারই বাদ দিচ্ছে বলে মনে হয়।এদিকে, আইআরআইয়ের জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ মানুষ আগামী বছর দেশের অর্থনীতি আরো ভালো হবে বলে মনে করেন। মাত্র ১৮ শতাংশ মনে করেন, অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। ৭২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে।

জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) পছন্দ করেন ৫১ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ৫৩ শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপিকে অপছন্দ করেন ৪৩ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীকে ৪০ শতাংশ। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগকে যথাক্রমে ৩৮, ৩৩ ও ২৫ শতাংশ মানুষ পছন্দ করেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন কি না- জানতে চাইলে ৬৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা অবশ্যই ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আরো ২৩ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে, মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা সম্ভবত ভোট দেবেন না।

আগামী সপ্তাহে ভোট হলে কোন দলকে ভোট দেবেন- এমন প্রশ্নে ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিএনপির কথা বলেছেন, যেখানে ২৬ শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। অন্যদিকে এনসিপিকে ৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টিকে ৫ এবং ইসলামী আন্দোলনকে ৪ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্য দলগুলোর ভোট রয়েছে ১১ শতাংশ। ৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন। এ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন ১১ শতাংশ ভোটার।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন