মেহেরপুর অনলাইন জুয়ার মূলহোতা ফিলসন গ্রেপ্তার, ডিবির অভিযানে আটক
প্রভাবশালী অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও সাইবার সুরক্ষা আইনের একাধিক মামলার পলাতক আসামি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আখতারুজ্জামান ফিলসনকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান নাগরিক প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ শুক্রবার (৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আখতারুজ্জামান ফিলসনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা এবং একটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪ নভেম্বর মেহেরপুর জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার ১২ নম্বর এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর থানায় দায়ের হওয়া দ্বিতীয় সাইবার সুরক্ষা আইনেট মামলার এক নম্বর এজাহার নামীয় আসামি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অর্থ পাচার, বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে ফেলতেন ফিলসন। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা দায়ের হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মেহেরপুর জেলা ডিবি পুলিশ ও কোমরপুর পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে প্রথম মামলার আরেক আসামি জামান উদ্দিন ওরফে জামান মাস্টারকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে ফিলসনের বাড়িতেও অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। তবে সে সময় বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংকের মধ্যে ডুব দিয়ে আত্মগোপন করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে পালিয়ে যায় ফিলসন।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযানের পরদিন কোমরপুর বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসে নিজেই ওই ঘটনার গল্প করেন তিনি। এরপর থেকে আর নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না। কখনও দিনের বেলায় এলাকায় এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যেতেন, আবার কখনও গভীর রাতে বাড়িতে আসতেন। তবে আত্মগোপনে থেকেও অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিংয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিবির ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে অনলাইন জুয়া পরিচালনা কিংবা মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নতুন মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে তাকে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা ও রাজনৈতিক মামলার পলাতক আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।’
