Home » মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার বড় নেটওয়ার্কে অভিযান, রাফসান জনিসহ গ্রেপ্তার ৪

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার বড় নেটওয়ার্কে অভিযান, রাফসান জনিসহ গ্রেপ্তার ৪

কর্তৃক xVS2UqarHx07
99 ভিউজ

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার বড় নেটওয়ার্কে অভিযান, রাফসান জনিসহ গ্রেপ্তার ৪

 

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চলমান অভিযানে রাফসান জনি রিপন (৩২) নামে এক কথিত জুয়ার এজেন্টসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে রাতভর পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে একাধিক স্মার্টফোন। এসব ফোনে অনলাইন জুয়ার একাধিক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল আইডি ও অবৈধ ডলার লেনদেনের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (১৯), বায়েজিদ ডালিম (৩০) ও রকিবুল ইসলাম (৩৫)।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৫ মে) রাতভর মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থানে থাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর সরাসরি তদারকিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

প্রথমে সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ ডালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড-৫ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোনটি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে Binance অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধ ডলার কেনাবেচা এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ফোনে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি ই-মেইল ঠিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে।

পরে বায়েজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজিবনগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ওপো স্মার্টফোন ও একটি ভিভো ওয়াই-০৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোন দুটি যাচাই করে অনলাইন জুয়া খেলা এবং Binance এর মাধ্যমে অবৈধ ডলার লেনদেনের তথ্য মিলেছে বলে দাবি ডিবির।

এদিকে ডিবির আরেকটি দল সদর উপজেলার গাড়াডোব এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাফসান জনি রিপনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি রেডমি নোট ১৪ প্রো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে ৩৭টি ই-মেইল আইডি এবং ২৯টি অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরবর্তীতে রাফসান জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমঝুপি এলাকা থেকে ফাহাদ হাসান জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ওপো এ-৩৮ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনটি পরীক্ষা করে সাতটি ই-মেইল আইডিসহ অনলাইন জুয়া-সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, জুয়ায় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই মোবাইল ব্যাংকিং ও Binance অ্যাপ ব্যবহার করে অবৈধ ই-ট্রানজেকশন করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

ডিবি পুলিশের ভাষ্য, অনলাইন জুয়ার এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গ্রামের বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের প্রলোভনে ফেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে হতাশা, মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর আওতায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন