দিনটি ছিল ২২ জুন ১৯৮৬। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে আজও স্মরণ করা হয় সেই লড়াইকে। আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা।
ম্যাচের প্রথম ৫০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ৫২ মিনিটে আসে সেই বহুল আলোচিত মুহূর্ত। ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ভেসে আসা বলের দখল নিতে একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা ও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিল্টন। শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়িয়ে যায় এবং আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।
তবে গোলটি হওয়ার পরপরই শুরু হয় বিতর্ক। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন— এটি কি সত্যিই মাথা দিয়ে করা গোল, নাকি হাতে বল স্পর্শ করেছিলেন ম্যারাডোনা? ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই জোরালো প্রতিবাদ ওঠে। কিন্তু ম্যাচ কর্মকর্তারা গোলটি বৈধ বলে স্বীকৃতি দেন।
সেই মুহূর্তে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও, খুব কম মানুষই ধারণা করেছিলেন যে এই ঘটনাই একদিন বিশ্ব ক্রীড়ার ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠবে।
পরবর্তীতে গোলটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে। এই নামটি দিয়েছিলেন স্বয়ং ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিখ্যাত সেই মন্তব্য করেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আর একটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’
চার দশক পরও ২২ জুন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণ করিয়ে দেয় সেই বিতর্কিত অথচ কিংবদন্তিতুল্য মুহূর্তকে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে আছে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে।
