সারা বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামগঞ্জের মানুষ তারেক রহমানের ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশপ্রেমিক সরকার গঠন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণ। তিনি বলেন, “ভাইয়েরা, আমার চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। স্বৈরাচারী দোসর ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবার ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে মেহেরপুর জেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ অরুণ বলেন, “আমরা লড়াইয়ের জন্য রাজপথে থাকব। অনেক বন্ধু বলেন, ভাই, ৮ থেকে ৯ মাস হয়ে গেল, কিছুই তো পেলাম না। আমরা যারা জেল-জুলুম খেটেছি, রাজপথে লড়াই করেছি, তাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এই সরকারকে অন্তত আমাদের দুই বছর সুযোগ দেওয়া উচিত। এখনই বলছেন, ত্যাগীরা কেন কিছু পায় না। ত্যাগ স্বীকার করেছি বলেই তো স্বৈরশাসনের হাত থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পেরেছি। আল্লাহর অশেষ কৃপায় সকলের মূল্যায়ন হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি পূর্বে বলেছিলাম, আমার এলাকা কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এ অঞ্চলের মানুষ সবাই কৃষকের সন্তান। সরকার ইতিমধ্যে সারের বিপণন ব্যবস্থায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যেখানে অভিযোগ আছে, অনিয়ম হয়েছে, সুস্থ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা কথা দিতে পারি, কৃষক এই মাস থেকেই ন্যায্য মূল্যে সার পাবে।”
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে মাসুদ অরুণ বলেন, “দীর্ঘ সময় রাজপথে ছিলাম। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এখনো আমরা রাজপথে আছি। আমরা বলেছি, মাসুদ অরুণ পরাজিত হতে পারে, হয়তো বা ষড়যন্ত্রের কারণে। আলহামদুলিল্লাহ, তারেক রহমান এ দেশের প্রধানমন্ত্রী—এর চেয়ে বড় কিছু চাওয়া আমার নেই।”
তিনি বলেন, “আমি শুধু একটাই অনুরোধ করব, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আমরা ধারণ করব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষিত একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করি। ভাইয়েরা আমার, এই চেতনার সঙ্গে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করব না। এই চেতনাকে সামনে রেখে আমরা বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
নতুন বাংলাদেশ গঠন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “নতুন একটি গণতান্ত্রিক সমাজ, রাষ্ট্র এবং জনগণের গণতান্ত্রিক কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের যে চেষ্টা, সেই চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে। তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে কেউ অপতৎপরতা চালালে আমরা আবারও রাজপথে নামব।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ। এ সময় বক্তব্য দেন মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আলী এবং মেহেরপুর পৌর যুবদলের সদস্যসচিব নওফেল আহমেদ রনি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা যুবদলের সহসভাপতি বাবু সাবের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রোকন ও সাইদুর সুজন, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব বিপ্লব মাস্টার, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবুল হাসান, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব নওশেল আহমেদ রনিসহ জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্য শেষে শহরের কোর্ট চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
