Home » ১০ বস্তা সারের চাহিদায় মিলছে মাত্র ১-২ বস্তা, বিপাকে মেহেরপুরের কৃষক

১০ বস্তা সারের চাহিদায় মিলছে মাত্র ১-২ বস্তা, বিপাকে মেহেরপুরের কৃষক

কর্তৃক xVS2UqarHx07
29 ভিউজ

 

শীতকালীন ফসলের আবাদ মৌসুম শুরু হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। বিশেষ করে আলু ও ভুট্টা চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা। প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে অনেক কৃষককে একাধিকবার সার ডিলারের দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কেউ ১০ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও পাচ্ছেন মাত্র এক থেকে দুই বস্তা। অন্যদিকে খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে তাঁদের।

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে শ্যামপুর ইউনিয়নের নতুন মদনা ডাঙ্গা গ্রামের মেসার্স মাসুদ আল নূর বিসিআইসি সার ডিলারের মাধ্যমে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের সময় এ নিয়ে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় কৃষকেরা তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

 

শ্যামপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, “আজকে যে সার বিতরণ করা হচ্ছে, তা কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয়। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য টিএসপি ৬০ বস্তা, ডিএপি ৮০ বস্তা ও পটাশ ৬৫ বস্তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের গ্রামে ৩২০টি পরিবারের বসবাস। এত কম সার দিয়ে এত কৃষকের মধ্যে কীভাবে বিতরণ করব, সেটিই বড় সমস্যা। এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমার আবেদন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হোক।”

 

শ্যামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামীম রেজা বলেন, “আমরা সঠিকভাবে সার বিতরণ করছি। আগামীতে আরও বেশি পরিমাণে সারের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ সার দিতে না পারলেও সবাইকে মোটামুটি দেওয়ার চেষ্টা করছি। যাঁদের ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমি রয়েছে, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ সার দিতে পারছি না। তাঁদের দুই বস্তা করে দিচ্ছি। এতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। আগামীতে যেন এ ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে জেলা বিএনপির মাধ্যমে আলোচনা করব।”

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও কৃষক মান্নান মাস্টার বলেন, “আমার ২০ বিঘা জমি রয়েছে। অথচ যে পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে এক বিঘা জমির চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। এক থেকে দুই বস্তার বেশি সার দেওয়া হচ্ছে না। এক বস্তা ফসফেট নিলে ডিএপি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বর্তমানে আলুর আবাদে ডিএপি ও টিএসপি—দুই ধরনের সারই প্রয়োজন। এভাবে কোনোভাবেই আমাদের সারের ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। খোলাবাজারে সার কিনতে গেলে প্রতি বস্তায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে খোলাবাজারে ডিএপি ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং টিএসপি ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমরা চাই, আগের মতো খোলাবাজারে সার কেনাবেচার সুযোগ থাকুক।”

 

কৃষক মুরাদ মিয়া বলেন, “আমাদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকেরা প্রচুর পরিমাণে আলু ও ভুট্টা চাষ করেন। এই দুটি ফসলের জন্য প্রচুর সারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছি না। কৃষকদের সার সরবরাহ বাড়াতে সরকারের একটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তা না হলে আমাদের কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।”

 

কৃষক জাফর আলী বলেন, “শ্যামপুর ইউনিয়নে আমাদের যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, সে পরিমাণ পাচ্ছি না। এমনিতেই সবজির দাম কম। তার ওপর সার ঠিকমতো না পেলে আমাদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। আমার জমিতে বর্তমানে কলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদ রয়েছে। এসব ফসলের জন্য যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, তা পাচ্ছি না।”

 

কৃষক আলী হোসেন বলেন, “আগের মতো খোলাবাজারে সার পাওয়া গেলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। বর্তমানে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছি না। আমার তিন বিঘা জমিতে আখের আবাদ রয়েছে। সেখানে ৯ বস্তা সার প্রয়োজন। কিন্তু হয়তো দুই থেকে তিন বস্তা পাব। খোলাবাজার থেকে সার কিনতে গেলেও দাম অনেক বেশি।”

 

এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

কৃষকদের দাবি, আলু, ভুট্টাসহ শীতকালীন ফসলের আবাদ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি খোলাবাজারে সারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন