গাংনীতে এনসিপির সমাবেশস্থলের ১০ মিটারের মধ্যে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার
মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্ধারিত পদযাত্রা ও পথসভার দিন একের পর এক রহস্যজনক ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সকালের দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ও বিভিন্ন লেখা সংবলিত তিনটি কুশপুত্তলিকা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এবার সমাবেশস্থলের মাত্র ১০ মিটারের মধ্যে থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সবজিভর্তি একটি পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতর থেকে বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গাংনী বাসস্ট্যান্ডে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সমাবেশস্থল থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গাংনী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগটি উদ্ধার করে।
ব্যাগটি খুলে ভেতরে বোমা সদৃশ একটি বস্তু দেখতে পেয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
এর আগে একই দিন ভোরে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ও বিভিন্ন লেখা সংবলিত তিনটি কুশপুত্তলিকা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনাতেও তদন্ত শুরু করা হয়। একই দিনে পরপর দুটি ঘটনায় এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করেছে। সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে এবং দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
