Home » পিছিয়ে পড়েও জয়, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের নতুন ইতিহাস

পিছিয়ে পড়েও জয়, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের নতুন ইতিহাস

কর্তৃক xVS2UqarHx07
16 ভিউজ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায়ে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতার পুরোনো অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনল ব্রাজিল। হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে আগে গোল হজম করেও ২-১ ব্যবধানে জিতেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে ব্রাজিলকে চমকে দেয় জাপান। দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে সেলেসাওরা। এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় নাটকীয় জয়।

 

এই জয় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষ জায়গা নিল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায়ের ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয়ের এটি ব্রাজিলের অষ্টম ঘটনা। এর আগে সর্বশেষ এমন প্রত্যাবর্তন দেখা গিয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাইকেল ওয়েনের গোলে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।

 

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচেও সেই স্মৃতি ফিরল নাটকীয়ভাবে। প্রথমার্ধে জাপানের সংগঠিত ফুটবল ব্রাজিলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। গোল হজমের পরও তাড়াহুড়ো না করে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজেছে ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, চাপ ধরে রাখার ক্ষমতা এবং বেঞ্চের শক্তিতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় আনচেলত্তির দল।

 

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এমন প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের রিপ্লে ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। একই আসরের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় তারা।

 

এরপর ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ৫-২ গোলে জিতে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ব্রাজিল। ১৯৬২ সালের ফাইনালেও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে আগে গোল হজম করেছিল তারা। পরে ৩-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।

 

১৯৭০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষেও শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ক্লোদোয়ালদো, জাইরজিনিয়ো ও রিভেলিনোর গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে তারা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করেও ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল সেলেসাওরা।

‘এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না’, ব্রাজিলকে জিতিয়ে মার্তিনেল্লি

এরপর ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত ২-১ জয়। মাইকেল ওয়েনের গোলের পর রিভালদো ও রোনালদিনিয়োর গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল। সেই জয়ের পর দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায়ে পিছিয়ে পড়েও আর ম্যাচ জেতা হয়নি তাদের।

 

২০২৬ সালে জাপানের বিপক্ষে সেই অপেক্ষা শেষ হলো। গোলদাতা বদলেছে, সময় বদলেছে, কোচ বদলেছে, কিন্তু ব্রাজিলের নকআউট চরিত্রের পুরোনো দিকটা আবার দেখা গেল। ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেলেসাওদের শেষ ধরে নেওয়া যায় না।

 

বিশ্বকাপ নকআউট পর্যায়ে ব্রাজিলের ৮ প্রত্যাবর্তন

 

১৯৩৮: ব্রাজিল ২-১ চেকোস্লোভাকিয়া, কোয়ার্টার ফাইনাল রিপ্লে

১৯৩৮: ব্রাজিল ৪-২ সুইডেন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ

১৯৫৮: ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন, ফাইনাল

১৯৬২: ব্রাজিল ৩-১ চেকোস্লোভাকিয়া, ফাইনাল

১৯৭০: ব্রাজিল ৩-১ উরুগুয়ে, সেমিফাইনাল

১৯৯৮: ব্রাজিল ৩-২ ডেনমার্ক, কোয়ার্টার ফাইনাল

২০০২: ব্রাজিল ২-১ ইংল্যান্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল

২০২৬: ব্রাজিল ২-১ জাপান, শেষ ৩২

জাপানের বিপক্ষে জয় তাই শুধু শেষ ষোলোয় ওঠার গল্প নয়। এটি ব্রাজিলের পুরোনো বিশ্বকাপ চরিত্রেরও ফিরে আসা। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচকে নিজের দিকে টেনে নেওয়া, চাপের মধ্যে শান্ত থাকা, আর শেষ মুহূর্তে আঘাত করা, এই তিন জিনিসই আবার মনে করিয়ে দিল সেলেসাওরা।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন