Home » হেফাজতের বক্তব্যের প্রতিবাদে মেহেরপুরে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

হেফাজতের বক্তব্যের প্রতিবাদে মেহেরপুরে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

কর্তৃক xVS2UqarHx07
15 ভিউজ

হেফাজতের বক্তব্যের প্রতিবাদে মেহেরপুরে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

 

উসকানি ও ফতোয়াবাজির অভিযোগ, সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দাবি

 

মেহেরপুরে, ২৭ আগস্ট ২০২৬: হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের নিয়ে ‘মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকি’র অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মেহেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মেহেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের জেলা প্রেসক্লাবে সংগঠনটির উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের কুষ্টিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির মো. জসেব উদ্দীন। এতে সভাপতিত্ব এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেহেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম। আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোঃ শরিফুল ইসলাম, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেহেরপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মাহমুদ।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ওই সমাবেশে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্যের পাশাপাশি সংগঠনটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়।

 

হেযবুত তওহীদের অভিযোগ, সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের দেওয়া নির্দিষ্ট শর্তগুলোও সমাবেশে যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এছাড়া ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে পেশ করা ৯ দফা দাবির ৬ নম্বর দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করেন, এর আগেও উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংগঠনটির দুই সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে হেযবুত তওহীদের হাজারো সদস্য এবং নোয়াখালীতে সংগঠনটির স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদ নিজেদের একটি ‘অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করে। বক্তারা বলেন, আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তারা উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে আসছেন।

 

সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ সময়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় শতাধিক মামলা করা হলেও গত ৩১ বছরে কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি এবং তারা এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, তাদের আকিদা ও বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের ‘উগ্র এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে হেফাজতে ইসলাম সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

 

যেসব দাবি জানানো হয়েছে

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

 

– উসকানিমূলক বক্তব্য ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া;

– শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ করা;

– হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;

– সংগঠনটির উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;

– মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

একই সঙ্গে দেশের সংবিধান, আইনের শাসন এবং প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন