গাংনীতে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু
গাংনী(মেহেরপুর)প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনীতে সাপের কামড়ে মো: মাহাতাব আলী(৪০) নামের কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলার সাহারবাটি-হিজলবাড়িয়া মাঠে কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মাহাতাব আলী উপজেলার হিজলবাড়িয়া গ্রামের মৃত মোঃ শামসুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে উপজেলার সাহারবাটি মাঠে জমিতে সেচ দিয়ে চাষ করছিল।এ সময় জমির আইলের পাশে পানি বের হওয়ার গর্ত বন্ধ করতে গেলে একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়।মাঠে থাকা কৃষকরা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত তার পরিবারকে জানাই।প্রথমে পরিবারের লোকজন ওঝার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার পরও অবস্থার অবনতি হয়।পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় লিটন মাহমুদ নামের একজন জানান, গাংনী উপজেলায় প্রায় শোনা যায় সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।ওঝা বা ঝাড়ফুক কারীর কাছে না নিয়ে দ্রত হাসপাতালে নিলে রোগীর জন্য বেশি ভালো হয়।যেহেতু হাসপাতালে সাপের এন্টিভেনম পাওয়া তাই বিলম্ব না করে হাসপাতালে নেয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করলে জনসাধারণ বেশি উপকার পাবে।অনেক পরিবার না বুঝে ওঝা বা ঝাড়ফুঁক কারীর কাছে নিয়ে গিয়ে বিলম্ব করে।এ কারণে অনেক সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা: আসমা তারা বলেন, সকালে বিষধর সাপে কামড় দেয়। স্থানীয়ভাবে দেখানোর পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাংনী থানার ওসি তদন্ত আল মামুন বলেন, সাপের কামড়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো: একরামুল হক বলেন , সাপে কাটা কৃষক মাহাতাব আলীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
আমরা দেখতে পাই সাপে কাটার পর অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা রোগীকে কবিরাজের কাছে নিয়ে ঝাঁড়ফুক করে সময় নষ্ট করেন। ফলে সচেতনতার অভাবে সাপের কাটা রোগী মারা যায়।সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।তাছাড়া আমাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘এন্টিভেনম’পাওয়া যায়।তাই কাউকে সাপে কাটলে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
