Home » পীরের কবর পাহারায় পুলিশ

পীরের কবর পাহারায় পুলিশ

কর্তৃক xVS2UqarHx07
54 ভিউজ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার কবর ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়েছে। কবর থেকে লাশ উত্তোলনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পড়ে পীরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় দরবারে প্রতিস্থাপন করা হবে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কবর এলাকায় নজরদারি বাড়ায় প্রশাসন।

তবে পীরের এক ভক্ত আব্দুর রহমান এসব গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, লাশ উত্তোলনের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্তও হয়নি। পীর সাহেবকে যারা হত্যা করেছে এবং দরবারে ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়েছে, তারাই তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লাশ উত্তোলন করে দরবারে প্রতিস্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করার কথা থাকলেও প্রশাসনের নির্দেশনায় সে দাবি থেকে সরে আসেন ভক্তরা। পরে তারা হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই কবর পাহারায় রাখা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক নয়। ভক্তদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, কবর থেকে লাশ উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এ বিষয়টি আমরা ভক্তদের বুঝিয়েছি। তারা বিষয়টি অনুধাবন করেছেন এবং এমন কিছু করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। দরবার এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্মীয় কিতাব পবিত্র কোরআন অবমাননা ও নিজেকে আল্লাহ দাবি করার মতো বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা চালায়। এ সময় মারধরের পর পীর শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে দরবার লোড করা হয়।

ঘটনার তিনদিন পর সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন