মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী এলাকায় চাের সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরের দিকে বামন্দী মেসার্স জামান ফিলিং স্টেশনের নিকট এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে অজ্ঞাত ওই যু্বকসহ চোর চক্রের পাঁচ সদস্যের একটি দল বামন্দী বাজারের খোকন এন্টারপ্রাইজের দোকানের তালা ভেঙে টায়ার চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। এ সময় দোকান মালিকের ছোট ভাই তুষার হোসেন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, দোকানের সামনে রাখা নীল রঙের একটি পিকআপে তিন জোড়া টায়ার তুলে নিয়ে চাের চক্রের ৪ সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে স্থানীয় জনতার হাতে একজন আটক হয়। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তিনি ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যুবরণ করেন।
খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাসানুজ্জামান বাদল হোসেনের ছোট ভাই তুষার হোসেন জানান, “আমি রাতে দোকানের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে হঠাৎ করে আমার ঘুম ভেঙে যায়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখতে পায় দোকানের সামনে একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যানে টায়ার তোলা হচ্ছে। আমি চিৎকার শুরু করলে, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় একজনকে আটক করা হয়, যিনি পরে গণপিটুনির শিকার হন।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একাধিকদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের সনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, মরদেহের পরিচয় সনাক্ত ও ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
