Home » ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ফের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা ট্রাম্পের

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ফের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা ট্রাম্পের

কর্তৃক xVS2UqarHx07
26 ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে পুনরায় ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা দায়ের করেছন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সংবাদমাধ্যমটির ওপর চটেছেন তিনি।

 

যদিও এর আগেই ট্রাম্প মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু আদালত অভিযোগ ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে মামলাটি খারিজ করে দেয়। আদালত কর্তৃক চিহ্নিত ক্রুটিগুলো সংশোধন করে পুনরায় মানহানির ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

ট্রাম্পের অভিযোগ, পত্রিকাটি এমন একটি খবর ছেপেছে যেখানে বলা হয়েছে যে, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে পাঠানো জন্মদিনের কার্ডে তার সই ছিল। তিনি ও তার আইনজীবীদের দাবি, ওই কার্ডটি ভুয়া এবং এই খবর প্রকাশ করে তার সুনাম নষ্ট করা হয়েছে। তাই তিনি পত্রিকার মালিক রুপার্ট মারডকের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

 

বুধবার (২৭ মে) দায়ের করা এই মামলায় ট্রাম্প কমপক্ষে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। সমালোচকদের মতে, এটি গণমাধ্যমের ওপর চাপ তৈরির একটি বড় প্রচেষ্টার অংশ।

 

ওমানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ডের আইনজীবীরা সংশোধিত অভিযোগে লিখেছেন, সংবাদ প্রকাশের সময় বিবাদীরা মানহানিকর বিবৃতিগুলো সত্য ছিল কি না, তা যাচাই ছাড়া বেপরোয়াভাবে ছেপেছে অথবা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সত্য উদ্ঘাটন এড়িয়ে গিয়েছিল।

 

মিয়ামি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় রুপার্ট মারডক, ডাও জোন্স, নিউজ কর্প ও এর সিইও রবার্ট থমসন এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দুই সাংবাদিক খাদিজা সাফদার ও জোসেফ পালাজোলোকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তারা ট্রাম্পের মানহানি করেছেন। ফলে তিনি ‘অত্যধিক’ আর্থিক ও সুনামের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

 

ডাও জোন্স বলেছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের কঠোরতা ও নির্ভুলতার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা জোরালোভাবে এই মামলার মোকাবিলা করবে।

 

গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ ও মামলা

 

বলা হয়ে থাকে, নিজ প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারী আচরণ, নীতিমালা প্রণয়ন ও আইন প্রয়োগের সমালেোচনা করায় গণমাধ্যমগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। সমালোচনা সহ্য না করা ও জবাবদিহিতার তাই গণমাধ্যমের লাগাম টানতে চান তিনি। এ জন্য বিভিন্ন সময় হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের লাঞ্চিত করাসহ গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি এবং আইওয়ার ডেস মইন্স রেজিস্টারসহ অন্যান্য সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধেও মানহানি ও অন্যান্য মামলা করেছেন। ওই গণমাধ্যমগুলো কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি এবং আদালতে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি সংস্থাগুলোতে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে সমালোচনাকারী সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতা প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে, যা গণমাধ্যম সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে।

 

প্রথম মামলা খারিজ

 

২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইন আত্মহত্যা করে মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল, যা ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বিশ্বাস করত, সরকার ধনী ও ক্ষমতাশালীদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক ধামাচাপা দিচ্ছে।

 

অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, ২০০৬ সালে এই অর্থলগ্নিকারীর আইনি ঝামেলা প্রকাশ্যে আসার আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।

 

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ড্যারিন পি গেলস এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম অভিযোগটি খারিজ করে দেন।

 

বিচারক জানান, মানহানির মামলায় জনপরিচিত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য ‘প্রকৃত বিদ্বেষ’ নামক আইনি শর্তগুলো ট্রাম্প পূরণ করতে পারেননি। এই শর্ত বা মানদণ্ড অনুযায়ী, বিবাদীকে এমন একটি বিবৃতি প্রকাশ করার প্রমাণ থাকতে হয়, যা মিথ্যা বলে তিনি জানতেন বা তার জানা উচিত ছিল।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

০ মন্তব্য

You may also like

মতামত দিন